প্রকাশিত:
২১ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসায় দুটি বড় ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। একদিকে যেমন পর্যটন ও ব্যবসা ভিসার জন্য মোটা অঙ্কের ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হবে, অন্যদিকে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের অভিবাসন (Immigrant Visa) ভিসা প্রদান।
বাংলাদেশসহ প্রায় ৩৮টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে যারা ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন, তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড দেওয়ার প্রক্রিয়াও আজ থেকে চালু হচ্ছে। সম্প্রতিকালে মার্কিন প্রশাসন এসব পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। ইতিমধ্যে দেশটিতে সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্তও স্থগিত করা হয়েছে।
গত ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করার কথা ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বৈধ পথগুলো আরো সীমিত হয়ে যাচ্ছে।
আজ থেকে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক ব্যবসা (B-1) বা পর্যটন (B-2) ভিসার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন, তাদের ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।১৫ হাজার ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার সমান। এই বন্ডের টাকা কেবল তখনই ফেরত পাওয়া যাবে, যখন ভিসাধারী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে আসবেন।২১ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা বৈধ ভিসাধারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের (F বা M ভিসা) জন্য এই বন্ড প্রযোজ্য নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে অনেক বাংলাদেশি যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তাদের অপেক্ষা আরো দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক বাংলাদেশি বলছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের সে দেশে নেওয়ার নানা পরিকল্পনা আপাতত থমকে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের অভিবাসন ভিসা ইস্যু করা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব দেশের অভিবাসীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা ওয়েলফেয়ারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত ভিসা প্রদান বন্ধ থাকবে। স্থগিতাদেশ থাকলেও আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। তবে চূড়ান্তভাবে ভিসা প্রদান আপাতত বন্ধ থাকবে।
প্রসঙ্গত, ভিসা মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা ঠেকাতে ব্যবসা ও পর্যটক ভিসায় জামানত নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ জামানতের অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে ভিসা সাক্ষাত্কারের সময়। এই অর্থ ফেরতযোগ্য। অর্থাত্, ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে কিংবা ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় না থাকাসহ অন্যান্য শর্ত মেনে চললে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। এদিকে গতকাল মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় জানিয়েছে, এফ বা এম ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে না।
ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বিশেষভাবে সতর্ক করেছে যে, ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে কোনো অবস্থাতেই বন্ডের টাকা পরিশোধ করা যাবে না।কনস্যুলার অফিসার ভিসা অনুমোদনের পরই কেবল বন্ডের নির্দেশ দেবেন।
বন্ড পরিশোধ করতে হবে শুধুমাত্র মার্কিন সরকারের নির্ধারিত Pay.gov পোর্টালের মাধ্যমে। কোনো তৃতীয় পক্ষ বা এজেন্সির মাধ্যমে টাকা লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
এদিকে ভিসা বন্ড জমা দিয়ে যেসব বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন, তাদের জন্য বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর তিনটি হলো- বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (বিওএস), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (জেএফকে) ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (আইএডি)।
এর বাইরে অন্য কোনো বিমানবন্দর দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে বা সে দেশ থেকে বের হতে পারবে না। যদি কেউ অন্য কোনও বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করে বা বের হয়, তাহলে তা বন্ডের নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণত হবে এবং বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।